মামলা প্রত্যাহারের দাবি অবশ্যই থাকবে

সাক্ষাৎকার : তপন বিশ্বাস

মামলা প্রত্যাহারের দাবি অবশ্যই থাকবে

স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—এসব বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সোচ্চার হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তাঁরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় নানা আইন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। এসব বিষয় নিয়ে প্রথম আলো কথা বলেছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি তপন বিশ্বাস–এর সঙ্গে।

রিয়াদুল করিম

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২১, ১০: ৫৫

 

অ+অ-

 

তপন বিশ্বাস

তপন বিশ্বাস

প্রথম আলো: সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একজন সাংবাদিককে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের পর মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলো। এই ঘটনাকে কীভাবে দেখছেন?

তপন বিশ্বাস: বিষয়টিকে সাংবাদিকদের জন্য একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকে। আমরা যেটা জানি এবং শুনেছি সেটি হচ্ছে তাঁকে (রোজিনা ইসলাম) ডেকে নিয়ে গিয়ে কিছু তথ্য দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে, বিশেষ উদ্দেশ্যে। যদি তিনি অন্যায় কিছু করে থাকতেন, তাহলে তাঁকে এতক্ষণ আটকে রাখার কোনো প্রয়োজন ছিল না। চাইলে তাঁকে আগেই থানায় সোপর্দ করতে পারত। ঘটনার পর আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তিনিও বলেছিলেন, এতক্ষণ আটকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন আসবেই।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাজ করার ক্ষেত্রে ওই ঘটনা কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে কি না?

তপন বিশ্বাস: অনেক অসৎ কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা নানা কায়দায় সাংবাদিকদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করবে বলে আমরা মনে করেছিলাম। রোজিনার ঘটনায় সাংবাদিকেরা আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে তাঁর জামিন হয়। এখন শঙ্কাটা কেটে গেছে। আমরা মনে করি এই দুঃসাহস আর কেউ করবেন না।

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামসহ (বিএসআরএফ) বিভিন্ন সংগঠন রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে করা মামলা প্রত্যাহার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকার এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
 

তপন বিশ্বাস: মামলা প্রত্যাহারের দাবি আমাদের অবশ্যই থাকবে। রোজিনাকে হয়রানিমূলকভাবে আটকে রাখার খবর পেয়ে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ছুটে যাই। অনেক চেষ্টা করেছি তাঁকে ছাড়ানোর জন্য। বারবার চেষ্টা করেছি সচিবের সঙ্গে কথা বলতে। আমরা বুঝতে চেয়েছিলাম আসলে বিষয়টা কী? কিন্তু সচিব আমাদের সঙ্গে কথা বললেন না। কথা বললে মীমাংসা হয়ে যেতে পারত।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা ঘটল। এখন তাদের কর্মকর্তারাই ঘটনার তদন্ত করছেন।
 

তপন বিশ্বাস: এই তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না বলেই আমরা মনে করি। বিষয়টি নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আমরা অনুরোধ করেছিলাম, অন্তত একটা নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি করা হোক। সেখানে সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তখন মন্ত্রী বলেছিলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সুপারিশ তিনি করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে রকম কিছু দেখা যায়নি।

প্রথম আলো: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নানা অপপ্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। এখন ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের প্রয়োগও দেখা গেল। এটা আপনারা কীভাবে দেখেন?
 

তপন বিশ্বাস: আমাদের কাছে মনে হয়, এর মাধ্যমে আসলে পেশাগত কাজ ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো ঘটনা ঘটেছে।